আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৩:১৫

গাজীপুরে আয়-সম্পদে হাসান সরকারের চেয়ে অনেক এগিয়ে জাহাঙ্গীর

অনলাইন ডেস্ক
গাজীপুরে আয়-সম্পদে হাসান সরকারের চেয়ে অনেক এগিয়ে জাহাঙ্গীর

টঙ্গী পৌরসভায় দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান থাকার পর সংসদ সদস্যের দায়িত্ব পালন করে আসা হাসানউদ্দিন সরকার আয় ও সম্পদে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের নবীন প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের চেয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দুই প্রার্থীর দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীরের নিট সম্পদের পরিমাণ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান সরকারের সাড়ে ৮ গুণ বেশি।

২০১৭-১৮ কর বছরে জাহাঙ্গীর তার নিট ৭ কোটি ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৭ টাকার সম্পদের বিপরীতে কর দিয়েছেন ৭৮ লাখ ২ হাজার ২৫৯ টাকা। ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৩৪ টাকার সম্পদের বিপরীতে হাসান সরকার কর দিয়েছেন ৮০ হাজার ৫৬৪ টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বার্ষিক আয় ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি; আর বিএনপি প্রার্থীর বার্ষিক আয় প্রায় ১১ লাখ টাকা।

 গতবার দলীয় সমর্থন চেয়ে ব্যর্থ হওয়া ৩৯ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর এবার আজমতউল্লাহ খানকে হটিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছেন।

২০১৩ সালে গাজীপুরের নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে সুজন জানিয়েছিল, সেবারও প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ছিল জাহাঙ্গীর আলমের, ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

অন্যদিকে গতবার আজমতউল্লাহকে হারিয়ে যিনি মেয়র হয়েছিলেন, সেই এম এ মান্নানকে বাদ দিয়ে ৭০ বছর বয়সী হাসান সরকারকে প্রার্থী করেছে বিএনপি।

আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠেয় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর এবং ধানের শীষের প্রার্থী হাসান সরকার দুজনের মনোনয়নপত্রই বৈধতা পেয়েছে।

রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রকিবউদ্দীন মণ্ডল ১০ জনের মধ্যে নয়জনের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম  বলেন, “মেয়র পদে স্বতন্ত্র একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে এ নিয়ে আপিলের সুযোগ রয়েছে।”

হলফনামায় জাহাঙ্গীর

>> জন্ম: ৭ মে, ১৯৭৯; শিক্ষাগত যোগ্যতা- এমএ/এলএলবি; পেশা: ব্যবসা, এমডি, অনারেবল টেক্সটাইল কম্পোজিট লিমিটেড ও জেড আলম অ্যাপারেলস।

>> মামলা: বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। আগে দুটি মামলা থাকলেও ২০০৪-০৫ সালে তা থেকে অব্যাহতি পান।

>> আয়ের উৎস: কৃষিখাত থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা; বাড়ি ভাড়া থেকে ৪ লাভ ৩০ হাজার টাকা; ব্যবসা থেকে ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। জমি ‘কেনা বাবদ’ ১ কোটি ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা

>> অস্থাবর সম্পদ: নগদ টাকা ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৮ টাকা। ব্যাংকে জামানত ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭১ টাকা। ব্যবসায় পুঁজি ৭৫ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৭ টাকা। অনারেবল টেক্সটাইলের শেয়ার ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ২০০ টাকা, জেড আলম অ্যাপারেলসের শেয়ার ২০ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র ১০ লাখ টাকা। গাড়ি দুটি। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র। একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল, দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫০ টাকা।

>> স্থাবর সম্পদ: কৃষি জমি ১৪১৫ দশমিক ১৫ শতক। অকৃষি জমি ৩৩ দশমিক ৭১২৪ শতক। দালান ও বাণিজ্যিক জমি ৭ দশমিক ৪৩৭৬ শতক।

>> দায়-দেনা: জমি বিক্রির জন্য বায়না বাবদ ৮ কোটি টাকা দায় রয়েছে জাহাঙ্গীরের।

হলফনামায় হাসান সরকার

>> জন্ম: ১ জুলাই ১৯৪৮; শিক্ষাগত যোগ্যতা- বিএ; পেশা: ব্যবসা।

>> মামলা: ফৌজদারি দুটি মামলা; একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকার, অন্যটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে টঙ্গী থানার। আরও তিনটি মামলা ছিল, সেগুলো নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

>> আয়ের উৎস: কৃষি থেকে ৬৩ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৫ লাখ ২২ হাজার ৯০০টাকা, ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ব্যাংক সুদ থেকে ১১ হাজার ৫২৬ টাকা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা। নিজের মোট বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৬ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় কৃষি ২৫,২০০ টাকা, বাড়ি ভাড়া ৬ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা, ব্যাংক সুদ ৩ হাজার ৯৯৮ টাকা।

>> অস্থাবর সম্পদ: নগদ টাকা ৩ লাখ ৫০ হাজার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬০ লাখ ৪৯ হাজার ৬০১ টাকা, ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি গাড়ি, স্বর্ণ ২১ তোলা। একটি শটগান ও একটি পিস্তল ৫২ হাজার টাকা। মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৮৭ লাখ ১৬০১ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে নগদ ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৫৮ হাজার ৫৪২ টাকা, স্বর্ণ ৩২ তোলা, ১০ হাজার টাকার একটি একনলা বন্দুক।

>> স্থাবর সম্পদ: কৃষি জমি ৫০০.৫৩১ শতক, দালান বা আবাসিক ৭.৫ শতক জমির উপর ৫টি দোকান, ৯০ শতক জমি ও স্থাপনা, সেমিপাকা ৩২টি রুম, একচালা টিনশেড ঘর। স্ত্রীর নামে রয়েছে কৃষি জমি ২০৮.৮৩৫, অকৃষি জমি ৯৭ শতক,৩২ রুমের ছাপড়া ঘর। ২৯০০ বর্গফুটের ৪ তলা বাড়ি।

>> দায়-দেনা: ঋণ ২৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।  

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যে হলফনামা প্রার্থীরা দাখিল করেন, তাতে ভুল তথ্য দেওয়া হলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রয়েছে।

এভাবে হলফনামা দাখিলে জনগণ প্রার্থী সম্পর্কে জানতে পারলেও তাতে সঠিক তথ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখার পক্ষপাতি সাবেক মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান।

তিনি বলেন, “বৈধ সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ একটা তথ্য ইসির হলফনামা থেকে জনগণ জানতে পারছে। এগুলো সঠিক কিনা তাও যাচাই-বাছাই করে দেখা দরকার।”

উপরে